বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
কক্সবাজারে মৃত্যুদন্ডের আসামী নিয়ে ‘আয়নাবাজি’ সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর অবরোধের মুখে ইরানের পথ ধরা জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী, পরিদর্শন করবেন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত আন্তর্জাতিক এ্যামোনেষ্টির হিউম্যান রাইটস একাডেমি থেকে বিরল সম্মাননা অর্জন করলেন ফারুক ইকবাল  টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

কক্সবাজারে মৃত্যুদন্ডের আসামী নিয়ে ‘আয়নাবাজি’

বিশেষ প্রতিবেদক, কক্সবাজার ভয়েস:
কক্সবাজারে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি নিয়ে ‘আয়নবাজি’ চলচ্চিত্রের গল্পের মত ঘটনা ঘটেছে; যদিও গল্পটি একটু ভিন্ন। যেখানে ইয়াবাসহ আটকের সময় মূল অপরাধী ব্যক্তির পকেটে পাওয়া নিজের নামের ‘জন্ম নিবন্ধন’ সনদে ব্যবহার করা নাম-ঠিকানা সহ অন্যান্য তথ্যেই আয়নাবাজির শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি। ঘটনায় মূল অপরাধী ব্যক্তি জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পর পলাতক অবস্থায় মামলার রায়ের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়। পরে জন্মনিবন্ধনের নাম-ঠিকানা মতে ‘আয়নাবাজির শিকার ব্যক্তি আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ভুক্তভোগী ব্যক্তি। কারান্তরীণ হওয়ার পর বেরিয়ে আসে আয়নাবাজি ঘটনার মূল রহস্য।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলায় কারান্তরীণ ব্যক্তি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার নাম ও ঠিকানা জন্মনিবন্ধনে ব্যবহার করে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলায় নিজেকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।

ঘটনায় পুলিশ বলছে, বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর আদালতের আদেশে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন জমা দাখিল করেছে। প্রতিবেদনে জন্মনিবন্ধনের মিথ্যা তথ্যে কারণে মূল অপরাধীর পরিবর্তে একই নাম ও ঠিকানার ভিন্ন ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়ে ‘আয়নাবাজির মত ঘটনার বিষয়টি প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে- মাদক মামলায় আসামি নিয়ে আয়নাবাজি গল্পের শুরু বিগত ২০২০ সালের ১ মার্চ; ওইদিন দুপুরে কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি ) খবর পায় কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি এলাকার জনৈক ফজলুল হক চৌধুরীর ভাড়ায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়িরা চালান লেনদেন করছে। এই খবরে ডিবি পুলিশের একটি দল পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ ৫ জনকে আটক করে। ঘটনায় পরদিন ( ২ মার্চ ) ৫ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার সময় গ্রেপ্তার এক আসামির পকেটে পাওয়া জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপির সূত্র ধরে পুলিশ মামলার এজাহারে ২ নম্বর আসামির নাম উল্লেখ করেন ‘সোনা মিয়া’। পরে ওই আসামি দীর্ঘ ২ বছরের বেশী জেল হাজতে থাকার পর বিগত ২০২২ সালের ১৩ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়। সেই থেকে ওই আসামি পলাতক রয়েছেন।

আদালত থেকে পাওয়া মামলার নথিপত্রের তথ্য মতে, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওই সময়ের ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ নম্বর আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিগত ২০২২ সালের ১৩ জুন ‘সোনা মিয়া’ কক্সবাজার জেলা জজ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনে বের হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরমধ্যে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর চলতি বছর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত ওই মামলায় ‘সোনা মিয়া সহ সংশ্লিষ্ট ৫ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর গত ২৩ জুন র্যাব-১৫ এর একটি দল চকরিয়ার ডুলাহাজার থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে ‘সোনা মিয়াকে’ গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কিন্তু, গ্রেপ্তার সোনা মিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পরই আসামিকে নিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন প্রশ্নের। আর এই প্রশ্নকে ঘিরে সামনে আসে ‘আয়নাবাজির মত চাঞ্চল্যকর গল্পের।

কারাগারে যাওয়ার ২/৩ দিন পর ‘সোনা মিয়া’ কারাগারের জেল সুপার বরাবর আবেদন করে দাবি করেন, তিনি এই মামলার আসামী নন। পরে জেল সুপার মামলায় ইতিপূর্বে জেল হাজত থেকে জামিনে বের আসামী সোনা মিয়ার সঙ্গে বর্তমানে মৃত্যদণ্ডের সাজা নিয়ে কারান্তরীণ থাকা সোনা মিয়ার ছবি, ফিঙ্গার প্রিন্ট, ঠিকানা ও তথ্যের গড়মিল খুঁজে পান। এরপর জেল সুপার বিষয়টি জেলা ও দায়রা জজের লিখিতভাবে অবহিত করেন। আদালত বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন। গত ২ জুলাই পুলিশ আদালতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে রহস্যের জট খুলে আসামী নিয়ে ‘আয়নাবাজি’ গল্পের। যেখানে উঠে এসেছে, গত ২০২০ সালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এবং জামিনপ্রাপ্ত সোনা মিয়া মামলার রায় ঘোষণার পর র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার সোনা মিয়া একই ব্যক্তি নন। ঘটনার প্রথমে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান।

প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বর্তমানে গ্রেপ্তার থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ঘটনার সময় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে ২ নম্বর আসামির প্রকৃত নাম ছিল রমজান। তিনি নিজেকে ‘সোনা মিয়া’ বলে পুলিশের কাছে পরিচয় দেন এবং পরে পুলিশকে একটি জন্মনিবন্ধন কার্ড দেখান।

আর মামলাটি দায়ের, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল সহ পুরো বিষয়ে তদন্তকারি কর্মকর্তার চরম গাফেলতি রয়েছে বলে জানান কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, এতগুলো ধাপ পার হয়ে আসল আসামী রমজান আলীর পরিবর্তে সোনা মিয়া নামের ব্যক্তি কারাভোগ পর্যন্ত করছে এটি প্রশাসনের অবহেলা ছাড়া কিছুই নয়। তখন নিশ্চিত হতে পারেনি আর এখন নিশ্চিত হচ্ছে এটি কোনভাবে কাম্য নয়। এতে সঠিক আইন বাস্তবায়ন হয় না।

কারাগারের সূত্র প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর হাজতে থাকা ব্যক্তি এবং সাজা হওয়ার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়েও মিলেছে তথ্যের ভিন্নতা। গত ২০২০ গ্রেপ্তারের পর কারাগারে সংরক্ষিত ছবি, ২৩ জুন গ্রেপ্তারের পর নেয়া ছবি রয়েছে ভিন্নতা। ওই মামলায় স্বামীকে ফাঁসানোর ন্যায় বিচার চান স্ত্রী।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে কারান্তরীণ ভুক্তভোগী সোনা মিয়ার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান- ‘আমার স্বামী নির্দোষ। তৎকালিন তদন্তকারি কর্মকর্তা সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে আমার স্বামীকে। আমি এঘটনার সূষ্টু বিচার চাই।’

বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, এটি আয়নাবাজি সিনেমার চেয়ে কম নয়। তারা পূর্ব পরিচিত এবং রোহিঙ্গা। ভুক্তভোগী সোনা মিয়া গ্রেপ্তারের আইন শৃংখলা বাহিনী ও আদালতে নির্দোষ দাবি করেননি। মূলত কারান্তরীণ হয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামী জানার পরই নিজেকে নির্দোষ ও মামলার এজাহারে উল্লেখিত ‘কথিত সোনা মিয়া’নন বলে দাবি করেন। এ নিয়েও রহস্য থেকে গেছে বলে মন্তব্য ওসির।

আয়নাবাজি সিনেমার গল্প অনেকে জানে। যেখানে ভাড়ায় কারাভোগের গল্প রয়েছে। যেখানে কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে ফাঁসানো হল ভিন্নভাবে। এটিও কোন অংশে সেই গল্প ঘটনার কম নয়। এ নিয়ে ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তির ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং মূল অভিযুক্ত রমজানকে গ্রেপ্তারের দাবি সচেতন মহলের।

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION